এবার হবে উন্মুক্ত জাতীয় এআই প্লাটফর্ম
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের সক্ষমতা জনান দিতে সুরক্ষা অ্যাপের পর এবার উন্মুক্ত জাতীয় এআই প্লাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে আইসিটি বিভাগ। আর এই কাজে সব অংশীজনদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
বুধবার রাজধানীর একটি অঅভজাত হোটেলে বিকাশে সিটির ন্যানো লোন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানান তিনি।
‘আজকের দিনটি ফিনটেক বিপ্লবের ইতিহাসে মাইলফলক হিসেবে লেখা থাকবে’ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে আমরা নতুন নতুন সেবা প্রসারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই। এই যাত্রায় ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বিকাশ। তাই বিকাশ আজ একটি আস্থার নামে পরিণত হয়েছে। একইভাবে সিটি ব্যাংক সমস্যা নিয়ে পড়ে থাকেনি, সমস্যাকে সমাধানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। সিটি ব্যাংক ও বিকাশের এই উদ্যোগ ডিজিটাল বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নেবে।
পলক আরো বলেন, বিকাশের অ্যাপ ব্যবহার করে প্রতিমন্ত্রী হয়েও আমি ঋণ পাইনি। কারণ, আমার মেড ইন বাংলাদেশ স্যাসমাং ফোনে বিকাশ আছে। কিন্তু বিকাশে আমার তেমন কোনো লেনদেন নেই। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কিন্তু বলে দিয়েছে আমি ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য। কারণ জীবনে পরিমিতি বোধ দর্শন মেনা চলা এবং কেনাকাটার কাজটা আমার সহধর্মীনি করায় গত তিন মাসে আমার বিকাশ থেকে কোনো লেনদেন হয়নি। যেহেতু নীতিমালা অনুযায়ী তিন মাস লেনদেন না করলে ঋণ পাওয়া যাবে না। তাই মন্ত্রী হয়েও এই ঋণের জন্য আমি যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হননি। অর্থাৎ ডিজিটাল ব্যবস্থা কতটা ফেয়ার, টেকনোলজি ড্রিভেন এবং ডিপেন্ডেট ও নিউট্রাল তা সহজেই অনুমেয়। এভাবেই ডিজিটাল ব্যবস্থা একটি স্বচ্ছ সেবা দিচ্ছে। এভাবেই ডিজিটাল ব্যবস্থা লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে এই ব্যবস্থায় দেশে গিগ অর্থনীতি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু ফরাহ মোঃ নাছের ও সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার। সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন এবং বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর, সিটি ব্যাংকের ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস-এর প্রধান মোঃ জাফরুল হাসান, বিকাশ-এর চিফ কমার্শিয়াল অফিসার আলী আহম্মেদসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা।
বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু ফরাহ মো. নাছের বলেন, আজকে যে ঋণ চালু হচ্ছে এর মাধ্যমে অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটবে, উৎপাদন বাড়বে। আমরা এসএমই খাতে ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোকে জোর দেই। সকলের উন্নয়ন হলেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটবে। ক্ষুদ্র বিষয়গুলো একত্রিত হয়েই মহিরুহে পরিণত হয়। এই ন্যানো লোন এক সময় খাতটিতে নেতৃত্ব দিবে। আমরা চাচ্ছি, প্রত্যেকটি ব্যাংক এভাবে ক্ষুদ্র ঋণ দিক।
এসময় শাখা ও এজেন্ট ছাড়াই পরিপূর্ণভাবে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংক এই বছরের মধ্যেই একটি নীতিমালা প্রকাশ করতে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ওই সেবা চালু করা সম্ভব হলে সেখানে কোন ব্যাংকের শাখা থাকবে না, ব্যাংকের একটি নাম থাকবে, একটি অ্যাপ থাকবে, মোবাইলেই সব কিছু করা যাবে। লেনদেনে সুদের হার হবে ৭ শতাংশের মতো। আর সব কিছুই হবে পুরোপুরি ডিজিটালি ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে।
সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নপূরণে আমাদের এই ‘ডিজিটাল ন্যানো লোন’ বড় ভূমিকা রাখবে। এই লোন নিতে গ্রাহকদের ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট থাকার কোনো প্রয়োজন পড়বে না। তারা নিজ নিজ বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই এই লোন নিতে ও পরিশোধ করতে পারবেন। এই লোন নেয়ার জন্যে কোনো জামানতেরও প্রয়োজন হবে না। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের প্রসার ঘটবে।
ডিজিটাল ন্যানো লোন সেবা বাণিজ্যিকভাবে চালু করার বিষয়ে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আপনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঞ্চয়টাকে ডিপোজিট হিসেবে নেওয়ার জন্য এজেন্ট ব্যাংক খুলবেন, তাদের টাকা ট্রান্সফার করে এমএফএস ব্যবসা করবেন, কিন্তু তাদেরকে বিশ্বাস করে তাদেরকে ঋণ সুবিধা দেবেন না, সেটা তো নৈতিকভাবে ঠিক হলো না। ডিজিটাল ন্যানো লোনের যুগে সিটি ব্যাংক ও বিকাশ-এর এই পদার্পণ আমাদের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশনের এই একটা বড় নৈতিক ঘাটতির মোচন ঘটালো।
এ প্রসঙ্গে বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর বলেন, ‘ব্যাংক ও এমএফএসের মধ্যে আন্তঃলেনদেন সেবার কল্যাণে অনেক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। বিকাশের মত কার্যকর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও বিশাল গ্রাহক ভিত্তিকে ব্যবহার করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সৃজনশীল নতুন নতুন সেবা চালু করতে পারে। এতে গ্রাহকদের কাছে আরো সহজে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে। এই উদ্যোগ বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিকাশের মধ্যকার সম্পূরক ও আস্থার সম্পর্কের স্বীকৃতিস্বরূপ। ডিজিটাল ন্যানো লোন আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সুযোগকে আরও বিস্তৃত করবে।’
তিনি আরো বলেন, বিদেশী নয়, দেশী সফটওয়্যার প্রকৌশলীরাই বিকাশের সকল উদ্ভাবনী কাজ সম্পাদন করছে। আমি এখন পর্যন্ত কোনো বিদেশেী পরামর্শক ভাড়া করিনি।
অনুষ্ঠানে এক মিনিটে কিভ্যাবে বিকাশ অ্যাপ থেকে ক্ষু্দ্র ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে তার একটি ডেমো উপস্থাপন করা হয়।